পৃথিবীর সব মানুষ উধাও হয়ে গেলে কী হবে? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+3 টি ভোট
909 বার দেখা হয়েছে
"চিন্তা ও দক্ষতা" বিভাগে করেছেন (141,860 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (141,860 পয়েন্ট)
 
সর্বোত্তম উত্তর

আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে পৃথিবী থেকে যদি হঠাৎ এই সকল মানুষ উধাও হয়ে যায় তবে এই পৃথিবীর কি হবে? কিইবা হবে, মানুষ ছাড়া মানুষের তৈরি এই সকল নির্মাণের? কিভাবে বসবাস করবে বাকি প্রাণীরা এই পৃথিবীতে?

তাহলে চলুন আজকের এই পোস্টে অনুমান করা যাক, মানুষ ছাড়া পৃথিবীর কি হবে?

সবার প্রথমে যেই পরিবর্তন টা হবে এই পৃথিবীতে সেটা হলো পৃথিবীর সকল আলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে। কারণ, পৃথিবীর অধিকাংশ পাওয়ার স্টেশন ফসিল ফিউয়েলের সাহায্যে চলে আর এগুলোকে চালানো হয় মানুষের দ্বারা। তাই মানুষ না থাকলে এগুলো চলবে কি করে? মানুষ ছাড়া এই পৃথিবীতে মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরে পৃথিবীর সকল নিউক্লিয়ার প্লান্ট সেফটি মোডে চলে আসবে। কারণ, এনার্জি কনজাংকশন কমে যাবে। সকল উইন্ডমিল ততোক্ষণ চলবে যতক্ষণ তাদের মদ্ধে লুব্রিকেণ্ট থাকবে। আর আস্তে আস্তে সকল সোলার প্যানেল কাজ করা বন্ধ করে দিবে। কারণ, সেগুলোকে পরিষ্কার এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোন মানুষ আর এই পৃথিবীতে থাকবে না। সোলার প্যানেলের উপরে মাটি জমতে থাকবে আর এই অবস্থায় সম্পূর্ণ পৃথিবী কে মহাকাশ থেকে একদম কালো দেখাবে।

কিন্তু কিছু কিছু সিস্টেম যা মানুষ দ্বারা তৈরিকৃত সেই সব জিনিস কাজ করতে থাকবে অনায়াসেই। যেমন কিছু Dam যা কিনা পানির Flow দ্বারা Active হয়। যেমন চায়নার Three Gorges Dam। আমেরিকার Hua Na Dam। এমন সব সিস্টেম মাসের-পর-মাস চলতে থাকবে এবং একটানা বিদ্যুৎ তৈরি করতে থাকবে। কিন্তু, মানুষের অন্যতম সৃষ্টি মেট্রো ট্রেন কিছুদিনের মধ্যেই মাটির নিচে একদম পানির তলায় চলে যাবে। কারণ, প্রতিটি মেট্রো ট্রেনের আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাসেজের সাইডে পাম্প তৈরি করা থাকে যাতে পানি না ঢোকে মেট্রোতে। আর যখন খারাপ হয়ে যাবে সেই সকল পাম্পগুলো তখন মেট্রো সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে আসবে। কিন্তু মানুষ ছাড়াও তো এই পৃথিবীতে মিলিয়নের বেশি প্রজাতির বসবাস করে। তাদের কি হবে?

প্রথমে তো মানুষের দ্বারা পালিত পশু পাখি না খেতে পেরেই মরে যাবে। যারা খাদ্যের খোঁজে বাহিরে বের হবে তাদেরকে বাজিরের পশুরা বা জংলি পশুরাই মেরে খেয়ে ফেলবে। আর এই পৃথিবীতে থাকা সকল গবাদি পশুরা যেমন গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি তারা সবাই ধীরে ধীরে মারা যাবে। কারণ, তাদের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি খাবার যোগানের জন্য তাদের মালিকেরা আর থাকবে না। কিন্তু, এই পৃথিবীর সকল পশুপাখিরা আরো বেশি বিপদে পরবে মানুষ পৃথিবী থেকে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যাওয়ার এক মাস পর।

বিদ্যুৎ তৈরির জন্য যত Cooling Water, Cool Production এ ব্যবহার করা হয় তা সব তরল পদার্থ থেকে ঊহ্য হতে শুরু করবে। যার ফলে প্রত্যেকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট ধীরে ধীরে গলতে থাকবে এবং একসময় ফেটে যাবে। এর ফলে তৈরি হবে রেডিয়েশন। যার ফলে লক্ষ লক্ষ প্রাণী ওই রেডিয়েশন এর প্রভাবে মারা যাবে।

ঠিক এক বছর পর পৃথিবীতে বেঁচে থাকা প্রাণীরা আকাশে অনেক তারাকে পৃথিবীতে পরতে দেখবে। কিন্তু আসলে এগুলি তারা হবে না। সেগুলো সব মানুষেরই তৈরি করা বিভিন্ন যন্ত্র যা কিনা এতদিন মহাকাশে পৌঁছেছে। যেমন স্যাটেলাইট। যা কিনা মানুষ ছাড়া একদমই অকেজো হয়ে পরবে এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচের দিকে আসতে থাকবে এবং বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসে গতীর প্রভাবে তা আগুনের গোলায় পরিণত হবে। যা পৃথিবীর নিচ থেকে দেখে উল্কাপাত মনে হবে।

সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী আবার নিজের মতোই হতে শুরু করবে। মানুষের দ্বারা তৈরি পলিউশন এবং রেডিয়েশন খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে দূর হয়ে যাবে। কারণ, নতুন ভাবে এসব তৈরি করার মতো কেউ আর থাকবে না। প্রানীরা আবার নতুন করে জন্মাতে শুরু করবে। দুবাই, লাসভেগাস, রাজেস্থান, মিশরের মত শহর গুলি এবং দেশগুলি বালির উপর তৈরি। তাই, আস্তে আস্তে এইসব যায়গাগুলি ধুলা মাটির নিচে তলিয়ে যাবে। আর বাকি সব শহরের রাস্তাঘাট সবকিছু জঙ্গলে পরিণত হবে। সকল বাড়ি-ঘর এবং বিল্ডিং এর মধ্যেও উদ্ভিদ জন্মাবে যা কিনা পরিণত হবে জিবীত প্রানীদের বাসস্থানে। কারণ সেই সময় গাছপালা কাটার মত কেউ আর থাকবে না।

এভাবে কিছু সময় চলতে থাকার পর প্রায় ৩০০ বছর পর মানুষের তৈরি অধিকাংশ বড় বড় মেটালের নির্মাণ যেমন আইফেল টাওয়ার, লন্ডন ব্রিজ এবং বাকি সকল ব্রিজ ও বড় বড় বিল্ডিং সব ভাঙতে শুরু করবে। জং লেগে কিংবা কোনো রকম মেয়েইনটেইনেন্স না হওয়ার কারণে। এই নির্মাণ গুলো ধসে পড়ার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি সব জায়গায় প্রসারিত হবে। পানির এই ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে পশুপাখিদের অনেক বেশি সুবিধা হবে। যার ফলে নতুন নতুন প্রজাতির প্রাণী জন্মাতে শুরু করবে। এমনও হতে পারে যে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীরা আবার জন্ম নিতে শুরু করেছে। সকল মানুষ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যাওয়ার ফলে শুধুমাত্র স্থলভূমি এবং স্থলভূমিতে বসবাস করা স্থলভূমির সকল প্রানীদের যে সুবিধা হবে তা কিন্তু নয়। পানি এবং জলজ প্রাণীদের জীবন যাপনে উন্নতি আসবে আর ধীরে ধীরে শহড়গুল পরিবর্তন হতে হতে প্রকৃতির সৌন্দর্যে পরিণত হবে।

এক হাজার বছর পর মানুষের নির্মাণের শুধুমাত্র কিছু অবশিষ্ট থাকবে। যেমন মিশরের পিরামিড, চায়নার “দ্য গ্রেট ওয়াল”। এক লক্ষ বছর পর তাও অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু, অবশিষ্ট থাকবে কিছু জিনিস যা কিনা মানুষেরই তৈরি করা। তা হলো প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের তৈরি দ্রব্য এবং প্লাস্টিকের নোংরা আবর্জনা। এগুলোও প্রায় ৫০ লক্ষ বছর পর আর থাকবে না। অর্থাৎ, তারপর যদি পৃথিবীতে কোন বুদ্ধিমান সভ্যতার সৃষ্টি হয় তাহলে তারা হয়তো কোনদিনও জানতেই পারবে না যে, এই পৃথিবীতে আমার আপনার মত মানুষের বসবাস ছিল। তাই এটা বোঝা একদমই কঠিন না যে, আমরা আমাদের পরিবেশকে কতটা ক্ষতি করে থাকি। তাই এখন থেকেই একটু সচেতন হবেন। এই পৃথিবী, পরিবেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। এর রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।

তথ্যসূত্র : বিজ্ঞান পত্রিকা

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+1 টি ভোট
2 টি উত্তর 1,267 বার দেখা হয়েছে
11 ডিসেম্বর 2022 "পদার্থবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ubaeid (28,340 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর 362 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
2 টি উত্তর 1,287 বার দেখা হয়েছে
+13 টি ভোট
1 উত্তর 632 বার দেখা হয়েছে

11,068 টি প্রশ্ন

18,699 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

898,445 জন সদস্য

201 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 201 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. SinghalIndustries22

    560 পয়েন্ট

  2. Singhalindutries002

    280 পয়েন্ট

  3. olivianaylor

    140 পয়েন্ট

  4. marketingsaidul

    120 পয়েন্ট

  5. Samiha Tanisha

    120 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো মোবাইল #science ক্ষতি চিকিৎসা চুল পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান খাওয়া গরম #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রাত রং সাপ মনোবিজ্ঞান শক্তি উপকারিতা লাল আগুন গাছ মস্তিষ্ক খাবার সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় ঠাণ্ডা হাত মশা স্বপ্ন ব্যাথা ভয় তাপমাত্রা বাতাস গ্রহ রসায়ন কালো গ্যাস পা উদ্ভিদ পাখি রঙ সমস্যা মন কি বিস্তারিত বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ভাইরাস ব্যথা দাঁত হলুদ বিড়াল আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন গতি কান্না মুখ
...