সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা কী এবং এর প্রভাব বাস্তব জীবনে! - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+4 টি ভোট
1,333 বার দেখা হয়েছে
"পরিবেশ" বিভাগে করেছেন (730 পয়েন্ট)

2 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন (4,640 পয়েন্ট)

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিঃ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি দ্বারা বোঝানো হচ্ছে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের পানির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে স্থলভাগ গ্রাস করে ফেলা সংক্রান্ত দুর্যোগকে। এই দুর্যোগ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট কারণসমূহের সম্মিলিত ফলাফল।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্যাস মুক্ত হয়ে পৃথিবীর হতে তাপ নির্গমন রুদ্ধ করে দেয়। ফলে সমুদ্র এই গ্যাসসমূহ শোষণ করে। এর ফলে সমুদ্রের তাপ বৃদ্ধি পায় আর সমুদ্রের পানির আয়তন বাড়ে। সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হলো মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া।

আমাদের জীবনে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবঃ

১. সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নদীর পানি স্রোত ধীর হয়ে গেছে। ফলে বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি সমুদ্রে ধীরে যাচ্ছে। এতে বন্যা দীর্ঘ সময় থাকে ও জনজীবন একেবারে দুর্বিষহ হয়ে যায়। 

২. সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নদীর পানির অনেক গভীর পর্যন্ত লবনাক্ততা ঢুকে পড়ছে, যা পুকুর ও জলাশয় এবং জমিকে লবণাক্ত করে ফসল ও মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদন নষ্ট করছে।

৩. সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য হিমবাহ গলে গেলে এর উপর বসবাসরত জীবকুলের বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে, এতে আমরা জীব বৈচিত্র্য হারাচ্ছি।  এছাড়াও সুন্দরবনের অনেক জীবনও এই কারণে এখন বিপন্নের মুখে।

৪. সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য উপকূলবর্তী অঞ্চলের জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিবে। জাতীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন:

⇨ ভারত মহাসাগরের উপসাগর বঙ্গোপসাগরের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলভাগ। দিনে দিনে এন্টার্কটিকার বরফ গলার ফলে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে (Sea Level Rise: SLR) ডুবে যাবার আশঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। UNFCCC'র দেয়া তথ্যমতে, বিংশ শতাব্দিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ১০-২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং ২০১১ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ আরো ১৮-৫৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর এতে মালদ্বীপসহ তলিয়ে যাবে উপকূলবর্তী দেশ বাংলাদেশও। জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল বা IPCC ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে জানিয়েছে যে, ২০৫০ খ্রিস্টাব্দে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অন্তত ১৭% ভূমি সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে৷ কিন্তু ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে 'দ্যা সায়ন্টিফিক কমিটি অন এন্টার্কটিক রিসার্চ' (SCAIR) জানিয়েছে, যে হারে এন্টার্কটিকার বরফ গলছে, তাতে ২১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫ ফুট। বিগত দিনের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ এই হিসাবের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা DFDI-এর অভিমত হলো, এপরিমাণ উচ্চতাবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম (১০ম)। এরকম অকষ্মাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ২০৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ দেশের প্রায় ৮%-এরও বেশি নিম্নাঞ্চল ও প্লাবনভূমি আংশিক এবং/অথবা স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়বে।এছাড়া রাজধানী শহর ঢাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাজনিত কারণে ঢাকাও আক্রান্ত হতে পারে বলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বা WWF-এর অভিমত। এইসব ভবিষ্যত সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষিত পেরিয়ে বর্তমানেই (২০০৯) সুন্দরবনে সর্বপ্রথম, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অনুভূত হয়। কারণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্যমতে, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত সমুদ্র, প্রতি বছর ৩ মিলিমিটার (০.১২ ইঞ্চি) করে বাড়ছিলো, কিন্তু পরবর্তি দশকেই প্রতি বছর ৫ মিলিমিটার (০.২ ইঞ্চি) করে বাড়া শুরু হয়েছে। এবং ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে সার্কের "আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র"(SMRC)-এর একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, হিরণ পয়েন্ট, চর চাঙ্গা, এবং কক্সবাজারে জোয়ারের পানির স্তর প্রতি বছর, যথাক্রমে ৪.০ মিলিমিটার, ৬.০ মিলিমিটার এবং ৭.৮ মিলিমিটার বেড়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির হারের চেয়েও আরো বেশি হারে ডুবে যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর বঙ্গোপসাগর উপকূলের এলাকাসমূহের মাটি দেবে, বসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই একটি গবেষণা থেকে ভারতের কলকাতা শহরে, মাটি বসে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।এছাড়া আরো দুটি গবেষণায় ভবিষ্যতে লখনৌ এবং পাটনার ভূমি বসে যাবার সম্ভাব্যতা দেখানো হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, ভূমি, প্রতি বছর ৫মিলিমিটার বসে গেলেও, পলি জমে আরো ৭ মিলিমিটার উঁচু হয়ে যায় ভূত্বক। কিন্তু মানবসৃষ্ট বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নদীর পানি বা বন্যার পানি সর্বত্র পৌঁছাতে পারে না, ফলে পলি পৌঁছতে পারছে না সেসব স্থানে। আর তাই ভূমি বসে যাবার তুলনায় সব স্থানে ভূমি উঁচু হচ্ছে না। এ গবেষণা সঠিক হলে, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির হারের চেয়ে অতিরিক্ত হারে বাংলাদেশ ডুবে যাবে; এতে যেমন মানুষের হস্তক্ষেপ আছে, তেমনি আছে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন।( তথ্যসূত্রঃ Wikipedia) 

৫. ঘন ঘূর্ণিঝড়সহ আরও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনিয়মিতভাবে দেখা দিবে। এতে জাতীয় জীবনে সংকট দেখা দিবে।

এছাড়াও আরও অনেক প্রভাব রয়েছে।

সর্বোপরি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি আমাদের জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। ধন্যবাদ।

- মোঃ সাদমান সাকিব। 

+1 টি ভোট
করেছেন (4,570 পয়েন্ট)

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের কারণে বিশ্বের মহাসাগরের স্তর বৃদ্ধি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্থল-ভিত্তিক বরফ, যেমন হিমবাহ এবং বরফের শীট গলে এবং সমুদ্রের জল উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে প্রসারিত করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিশ্বজুড়ে উপকূলীয় জীবনের জন্য একটি গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে, কারণ এটি ঝড়ের তীব্রতা, বন্যা, ক্ষয়, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং অবকাঠামো ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির তীব্রতা সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার মধ্যে কিছু হল যারা নিচু দ্বীপ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে, যারা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুতি এবং জীবিকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধিও একটি বৈশ্বিক সমস্যা, কারণ এটি বাণিজ্য, পর্যটন, নিরাপত্তা এবং মানব স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

 

 National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) অনুসারে, 1880 সাল থেকে বিশ্বব্যাপী গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় 8-9 ইঞ্চি (21-24 সেন্টিমিটার) বেড়েছে। 2021 সালে, বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ 1993 স্তরের চেয়ে 97 মিলিমিটার (3.8 ইঞ্চি) বেড়েছে, এটিকে স্যাটেলাইট রেকর্ডের সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় তৈরি করেছে (1993-বর্তমান)³। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কতটা কমানো যেতে পারে তার উপর নির্ভর করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে এবং ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) প্রকল্প করে যে নিম্ন নির্গমন পরিস্থিতিতে 2100 সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা 0.28-0.61 মিটার (0.92-2 ফুট) বা উচ্চতার নীচে 0.61-1.10 মিটার (2-3.6 ফুট) বাড়তে পারে। - নির্গমন দৃশ্যকল্প।

 

Source:

(1) Sea level rise, facts and information - National Geographic.

(2) Sea Level Rise - National Geographic Society.

(3) Climate Change: Global Sea Level | NOAA Climate.gov.

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+2 টি ভোট
1 উত্তর 94 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 267 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
1 উত্তর 1,919 বার দেখা হয়েছে
+11 টি ভোট
3 টি উত্তর 1,425 বার দেখা হয়েছে

10,744 টি প্রশ্ন

18,397 টি উত্তর

4,731 টি মন্তব্য

243,976 জন সদস্য

24 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 24 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. MIS

    990 পয়েন্ট

  2. shuvosheikh

    320 পয়েন্ট

  3. তানভীর রহমান ইমন

    160 পয়েন্ট

  4. unfortunately

    120 পয়েন্ট

  5. Muhammad_Alif

    120 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান পৃথিবী চোখ রোগ রাসায়নিক শরীর রক্ত আলো #ask মোবাইল ক্ষতি চুল কী চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান সূর্য প্রযুক্তি #science স্বাস্থ্য প্রাণী বৈজ্ঞানিক মাথা গণিত মহাকাশ পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি #biology বিজ্ঞান খাওয়া গরম শীতকাল #জানতে কেন ডিম চাঁদ বৃষ্টি কারণ কাজ বিদ্যুৎ রাত রং উপকারিতা শক্তি লাল আগুন সাপ মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার সাদা আবিষ্কার দুধ উপায় হাত মশা মাছ ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক শব্দ ব্যাথা ভয় বাতাস স্বপ্ন তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন উদ্ভিদ কালো পা কি বিস্তারিত রঙ মন পাখি গ্যাস সমস্যা মেয়ে বৈশিষ্ট্য হলুদ বাচ্চা সময় ব্যথা মৃত্যু চার্জ অক্সিজেন ভাইরাস আকাশ গতি দাঁত আম হরমোন বিড়াল কান্না
...