পড়তে বসলেই ঘুম আসে কেন? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+3 টি ভোট
2,399 বার দেখা হয়েছে
"লাইফ" বিভাগে করেছেন (141,850 পয়েন্ট)

2 উত্তর

+2 টি ভোট
করেছেন (141,850 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
ধরুন, আপনি পড়তে বসেছেন। হোক সেটা কোনো পাঠ্যপুস্তক, কিংবা নিছকই গল্প-উপন্যাসের বই। কিন্তু কয়েক পাতা পড়ার পরই আর এগোতে পারলেন না। কারণ ঘুমে চোখের পাতা লেগে আসছে আপনার। মনে হচ্ছে রাজ্যের ক্লান্তি যেন এসে ভর করেছে শরীরে। এখন ঘুমের চেয়ে জরুরি আর কিছুই হতে পারে না আপনার জন্য। এভাবেই সারাদিন মানসিক প্রস্তুতি ও পূর্ব-পরিকল্পনা সত্ত্বেও, খুব বেশিক্ষণ পড়া সম্ভব হলো না আপনার।

ভাবছেন, এটি কেবল আপনি? মোটেই না। এই সমস্যায় ভোগে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ। সারাদিন তারা একশোটা পরিশ্রমের কাজ করে ফেলতে পারে অনায়াসে, কিন্তু বই পড়তে শুরু করলেই ঘুমের আক্রমণে নাজেহাল হয় তারা। এর পেছনে কারণ কী? ফাঁকিবাজি? অমনোযোগ? মন বসে না পড়ার টেবিলে?

না, আপাতদৃষ্টিতে পড়তে বসলে ঘুম আসার পেছনে আমরা এসব কারণকে চিহ্নিত করলেও, বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজে বের করেছেন। প্রথমত, বই পড়তে গেলে চোখ সবসময় বইয়ের পাতার দিকে নিবদ্ধ রাখতে হয়, এবং প্রতি মুহূর্তে চোখকে বাম থেকে ডান দিকে, আবার ডান থেকে বাম দিকে ঘোরাতে হয়। শুধু তা-ই না, চোখ যেসব দেখে, সেগুলোর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে অর্থবোধক শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদও তৈরি করে নিতে হয়, এবং সেগুলো দ্বারা কী বোঝানো হচ্ছে, তা-ও অনুধাবন করতে হয়। আবার পাঠ্যপুস্তক পড়ার সময় বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয় পঠিত বিষয়বস্তুকে ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখার চ্যালেঞ্জ। এভাবে পড়ার সময় ক্রমাগত নাড়াচাড়ায় চোখের পেশি যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনই একসাথে অনেকগুলো কার্য সম্পাদন করতে গিয়ে মস্তিষ্কও ওঠে হাঁপিয়ে। তখন চোখ ও মস্তিষ্ক উভয়েরই বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। আর ঘুমের চেয়ে শ্রেয়তর বিশ্রাম কী হতে পারে! তাই তো ধীরে ধীরে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে, এবং মস্তিষ্কে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধ হতে থাকে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পড়ার সময় অনেকেই নিজের জন্য একটি আরামদায়ক অবস্থা তৈরি করে নিতে চায়। অনেকেই হয়তো শুয়ে শুয়ে পড়ে, আবার অনেকে বিশ্রামের ভঙ্গিতে শরীর এলিয়ে দিয়ে পড়ে। তাদের কাছে মনে হয় এভাবে পড়লে পড়া সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শরীরকে যখন আরামদায়ক অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক ধরেই নেয় যে এখন সময় কেবল বিশ্রামের। অথচ তখন যদি পড়ার মতো মানসিক পরিশ্রমের একটি কাজ করতে যাওয়া হয়, তখন মস্তিষ্ক বিদ্রোহ করে বসে। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হয়।

এই ঘুমের কারণে অনেকেরই গোটা ক্যারিয়ার বরবাদ হয়ে যাচ্ছে। পরদিন পরীক্ষা, এখনো অর্ধেকের বেশি সিলেবাস বাকি, অথচ ঘুমের কারণে পরীক্ষার আগের রাতেও বেশিক্ষণ পড়া সম্ভব হলো না - এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় অনেককেই। ফলে পরদিন পরীক্ষার হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকা কিংবা মনের মাধুরী মিশিয়ে যা-ইচ্ছা-তাই লিখে রেখে আসা ছাড়া কোনো উপায়ই থাকে না।

লেখক : জান্নাতুল নায়েম পিয়াল
0 টি ভোট
করেছেন (140 পয়েন্ট)

আমরা যখন বই পড়ি তখন চোখ সরাসরি বইয়ের পাতায় নিবদ্ধ থাকে, আর প্রতিমুহূর্তে চোখকে বাম থেকে ডান দিকে, আবার ডান থেকে বাম দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয়। শুধু চোখ ঘুরিয়ে দেখলেই তো হয়না, চোখ যা দেখে তা থেকে মস্তিষ্ককে অর্থবোধক শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদও তৈরি করে নিতে হয় এবং সেগুলো দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে, সেটাও অনুধাবন করতে হয়। এছাড়া পঠিত বিষয়বস্তুকে ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখার চ্যালেঞ্জটাও পাঠ্যপুস্তক পড়ার সময় বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয়। ক্রমাগত নাড়াচাড়ায় চোখের পেশি যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনই একসাথে অনেকগুলো কার্য সম্পাদন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে ওঠে আমাদের মস্তিষ্কও। এইসময় চোখ ও মস্তিষ্ক উভয়েরই বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। আর ঘুমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিশ্রাম তো আর কিছু হতেই পারেনা! অগত্যা ধীরে ধীরে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে, এবং মস্তিষ্ক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বোধ করতে থাকে।

তথ্যসূত্র: পড়তে বসলে ঘুম আসে কেন

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+3 টি ভোট
1 উত্তর 2,150 বার দেখা হয়েছে
28 ফেব্রুয়ারি 2021 "লাইফ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মেহেদী হাসান (141,850 পয়েন্ট)
+2 টি ভোট
2 টি উত্তর 695 বার দেখা হয়েছে
07 নভেম্বর 2021 "লাইফ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Laisaafrinlisa (140 পয়েন্ট)
+2 টি ভোট
1 উত্তর 378 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 549 বার দেখা হয়েছে
+12 টি ভোট
3 টি উত্তর 3,441 বার দেখা হয়েছে
05 অগাস্ট 2020 "লাইফ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন বিজ্ঞানের পোকা ৩ (25,790 পয়েন্ট)

10,899 টি প্রশ্ন

18,598 টি উত্তর

4,746 টি মন্তব্য

869,876 জন সদস্য

28 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 28 জন গেস্ট অনলাইনে

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো মোবাইল #science ক্ষতি চুল চিকিৎসা কী পদার্থবিজ্ঞান প্রযুক্তি সূর্য স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী মহাকাশ বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা লাল মনোবিজ্ঞান আগুন গাছ খাবার মস্তিষ্ক সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো উদ্ভিদ পা মন কি বিস্তারিত রঙ পাখি গ্যাস সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত ভাইরাস বিড়াল আকাশ গতি কান্না আম
...