এটি সাধারণত ‘অ্যালার্ম ব্লাইন্ডনেস’ (Alarm Blindness) এবং ‘হ্যাবিচুয়েশন’ (Habituation) বা অভ্যাসগত প্রতিক্রিয়া লোপ এ অভ্যস্ত হয়ে পড়ার কারনে হয়ে থাকে।
ঘুমানোর সময় ফোন যখন আমাদের বালিশের পাশে থাকে, তখন সকালে অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথেই আমাদের অবচেতন মস্তিষ্ক খুব কম পরিশ্রমে (হাত বাড়িয়েই) সেটি বন্ধ বা স্নুজ (Snooze) করে দিতে পারে। ঘুম এবং জাগরণের মধ্যবর্তী এই অবস্থাকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'স্লিপ ইনার্শিয়া' (Sleep Inertia) বলা হয়। এই সময়ে মস্তিষ্কের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশটি (Prefrontal Cortex) অনেকটায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। ফলে আপনি না জেনেই সম্পূর্ণ অবচেতন অবস্থায় অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন এবং ঘুম থেকে উঠার পর আপনার মনে হয় আপনি কোনো শব্দই শোনেননি।
আবার আমাদের মস্তিষ্ক যখন যেকোনো পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive) উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তাকে 'হ্যাবিচুয়েশন' বলা হয়। ফোন বালিশের কাছে থাকলে প্রতিদিন একই তীব্রতার শব্দ খুব কাছ থেকে সরাসরি কানে আসে। দীর্ঘদিন একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটার কারনে মস্তিষ্ক এই শব্দটিকে আর কোনো ‘হুমকি’ বা ‘জরুরি সংকেত’ মনে করে না, বরং এটিকে একটি সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ (Background noise) হিসেবে ধরে নিয়ে ফিল্টার করে দেয়। কিন্তু ফোন যখন দূরে রাখা হয়, তখন শব্দটির তীব্রতা ঘরের অন্যান্য বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে কানে পৌঁছায়। এই ভিন্ন মাত্রার শব্দকে মস্তিষ্ক সহজে এড়াতে পারে না। এমতাবস্থায়, আপনি যখন এলার্ম বন্ধ কর‍তে বিছানা থেকে উঠে যাবেন তখন মস্তিষ্কের রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম (RAS) সক্রিয় হয় এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এতে ঘুম আস্তে আস্তে পুরোপুরি ভেঙে যায়।
সোর্সঃ
https://ubiehealth.com/doctors-note/sleeping-multiple-alarms-alarm-blindness-brains-3741e3