বাতাস আসলে পৃথিবীর চারপাশে থাকা বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের নড়াচড়া। সূর্যের তাপ পৃথিবীর সব জায়গায় সমানভাবে পড়ে না বরং কোথাও বেশি, কোথাও কম এভাবে পরে। বেশি গরম বায়ু হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় আর ঠান্ডা ভারী বায়ু নিচে নেমে সেই জায়গা পূরণ করে। এই ওঠানামা আর স্থানবদলের ফলেই বাতাস তৈরি হয়। পাশাপাশি পৃথিবী ঘুরতে থাকার কারণে বাতাসের দিকও বদলে যায়। অর্থাৎ বাতাস বাইরে থেকে আসে না, এটা সবসময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতরেই তৈরি হয় এবং ঘুরে বেড়ায়।
আর আপনার প্রশ্ন যদি এটা হয় যে বায়ুমন্ডলের সৃষ্টি কোথায় তাহলে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সাথে সাথে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে। শুরুতে পৃথিবী ছিল গলিত পাথরের মতো, যেখানে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে প্রচুর গ্যাস (যেমনঃ জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন) নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর চারপাশে জমে একটি প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে পৃথিবী ঠান্ডা হলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে সমুদ্র গঠন করে, আর সাগরের প্রাচীন জীবেরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপাদন শুরু করে। কোটি কোটি বছরের এই প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং আজকের বায়ুমণ্ডল গড়ে উঠেছে।
Abdullah Al Masud
Team Science Bee