কম ঘুমের জন্য শরীরে কী কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+8 টি ভোট
1,181 বার দেখা হয়েছে
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (123,400 পয়েন্ট)

3 উত্তর

+7 টি ভোট
করেছেন (105,570 পয়েন্ট)
আমাদের সকলের পর্যাপ্ত ঘুম দরকারি। পর্যাপ্ত ঘুম বলতে আমরা সাধারণত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম কে বুঝি। তবে সেটা 5 ঘন্টা হলেও তেমন কোন ক্ষতি নেই। সেটা যার যার অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। কখনো কখনো হয়তো নানা কারণে সেভাবে পর্যাপ্ত ঘুম হয়না। তবে বেশি দিন এরকম চললে আমাদের কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন,

১. ঘুম কম হলে আমরা অনেক সময় শারীরিক এবং মানসিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করি।

২.এটা অনেক সময় আপনার কোন কাজের মধ্যে মানসিক সংযোগে বাধা সৃষ্টি করে অর্থাৎ মনোযোগ এর ক্ষেত্রে দূর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।

৩. দীর্ঘদিন ধরে কম ঘুমের কারণে আপনি অনেক সময় খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাবেন। ফলে আপনার মধ্যে আপনার আশপাশ সম্বন্ধে একটা বিরক্তিকর ভাব চলে আসতে পারে।

৪. দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে আপনি হয়তো আপনার দায়িত্ব গুলো সঠিক ভাবে পালন করতে অসমর্থ হতে পারেন। সে কারণে হয়তো আপনার আশেপাশে যারা আছেন তাদের আপনার সম্বন্ধে যে দৃষ্টিভঙ্গি সে ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

৫.আপনি যদি স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে কম ঘুমের কারণে আপনি হয়তো আপনার ক্লাসে সঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন না সে ক্ষেত্রে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে।

৬. শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-কলাপ এর নেতিবাচক পরিবর্তন হয় অনেক ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে আপনাকে গ্যাস্ট্রাইটিস তারপর হূদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে।

৭.কম ঘুমের প্রবণতা হয়তো আপনাকে কোনো ভালো চিন্তা করা থেকে দূরে রাখতে পারে।


তথ্যসূত্র ঃ কোরা
+5 টি ভোট
করেছেন (17,760 পয়েন্ট)

মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার জন্য ঘুমের কোনো বিকল্প নেই- এটা আমরা জানি। আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন সারা দিনে জমা হওয়া ক্ষতিকর পদার্থগুলো পরিষ্কার হয়। এতে ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক আবার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের অভাব খুব বেশি হলে মস্তিষ্ক নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলে। এর অর্থ হলো, মস্তিষ্কের কোষগুলোর বর্জ্য ধ্বংস করে যেসব কোষ, তারা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে।

মস্তিষ্ককে পরিষ্কার রাখার এই কাজের একটি অংশ হলো মাইক্রোগ্লিয়া কোষগুচ্ছ, যারা স্নায়ুতন্ত্রের বর্জ্য, ক্লান্ত এবং মৃত কোষের বর্জ্য পরিষ্কার করে। আরও এক ধরণের কোষ, অ্যাস্ট্রোসাইট মস্তিষ্কের বেশ কিছু কাজ একসাথে করে। এদের অনেকেগুলো কাজের মাঝে একটি হলো মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয় সিন্যাপ্সগুলোকে ছেঁটে ফেলা।

আমাদের মস্তিষ্ক একটি ছোট অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও শরীরের প্রায় ২০% অক্সিজেন ব্যবহার করে। এর কারণে আমাদের মস্তিষ্কে প্রচুর ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয় এবং সেলুলার স্ট্রেস বাড়ে। মস্তিষ্ক ঘুমানোর সময় কিছু নিউরোপ্রটেক্টিভ হরমোন ক্ষরণ করে (যেমনঃ মেলাটনিন, সেরোটোনিন) যারা ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও "গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম" নামক একটি প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক ঘুমের মধ্যে ব্রেইনের বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। অনিয়মিত ও কম ঘুমের ফলে আমাদের ব্রেইনে বেশি অক্সিডেটিভ ড্যামেজ হয় ও নিউরোডিজেনারেশন ঘটে। অতিরিক্ত ঘুমের অভাবের ফলে সক্রিয় হয় আমাদের মস্তিষ্কে থাকা মাইক্রোগ্লিয়া ও অ্যাস্ট্রোসাইটস। ফলে তারা মস্তিষ্কের বর্জ্যের অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় সিন্যাপ্স গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য কোষ গুলোও ফ্যাগোসাইটোসিস এর মাধ্যমে খেয়ে ফেলতে থাকে। এতে আমাদের মেমরি, চলাফেরা, নিয়ন্ত্রণ, মেজাজ ইত্যাদিতে প্রভাব পড়তে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের ঘুম কম হয় তাদের বৃদ্ধ বয়সে আলঝাইমার'স ডিজিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

সবচাইতে জটিল অঙ্গ, মস্তিষ্ক প্রতিনিয়তই নতুন করে নিজেকে তৈরি করছে, শক্তিশালী হচ্ছে আর ভাঙ্গাগড়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এটা একটি অসীম প্রক্রিয়া, যেখানে কিছু কাঠামো ভাঙ্গে আর কিছু নতুন করে তৈরি হয়। এ নিয়ে আরো গবেষণা হলে বোঝা যাবে এই অ্যাস্ট্রোসাইট এবং মাইক্রোগ্লিয়ার সক্রিয়তা মস্তিষ্কের ওপর আসলে কী প্রভাব রাখে। আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দৈহিক প্রায় সকল কার্যকলাপই ঘুমের ওপরে অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে যদি নিয়মিত স্বাভাবিকভাবে ঘুম না আসে, তাহলে ইচ্ছেমতো ওষুধ না খেয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

তথ্যসূত্রঃ জিনিউজ, প্রিয়ওয়েব

0 টি ভোট
করেছেন (135,490 পয়েন্ট)
১. ঘুম কম হলে আমরা অনেক সময় শারীরিক এবং মানসিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করি।

২.এটা অনেক সময় আপনার কোন কাজের মধ্যে মানসিক সংযোগে বাধা সৃষ্টি করে অর্থাৎ মনোযোগ এর ক্ষেত্রে দূর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে।

৩. দীর্ঘদিন ধরে কম ঘুমের কারণে আপনি অনেক সময় খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাবেন। ফলে আপনার মধ্যে আপনার আশপাশ সম্বন্ধে একটা বিরক্তিকর ভাব চলে আসতে পারে।

৪. দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে আপনি হয়তো আপনার দায়িত্ব গুলো সঠিক ভাবে পালন করতে অসমর্থ হতে পারেন। সে কারণে হয়তে আপনার আশেপাশে যারা আছেন তাদের আপনার সম্বন্ধে যে দৃষ্টিভঙ্গি সে ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+7 টি ভোট
2 টি উত্তর 844 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
2 টি উত্তর 746 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
1 উত্তর 527 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 682 বার দেখা হয়েছে
21 ডিসেম্বর 2022 "রসায়ন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জায়েন ভূইয়া (190 পয়েন্ট)

10,896 টি প্রশ্ন

18,594 টি উত্তর

4,746 টি মন্তব্য

865,667 জন সদস্য

55 জন অনলাইনে রয়েছে
6 জন সদস্য এবং 49 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Muhammad Al-Amin

    540 পয়েন্ট

  2. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

    420 পয়েন্ট

  3. Sabre Shipping

    100 পয়েন্ট

  4. 8kbett1art

    100 পয়েন্ট

  5. thuvienmc

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো মোবাইল #science ক্ষতি চুল চিকিৎসা কী পদার্থবিজ্ঞান প্রযুক্তি সূর্য স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী মহাকাশ বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা লাল মনোবিজ্ঞান আগুন গাছ খাবার মস্তিষ্ক সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো উদ্ভিদ পা মন কি বিস্তারিত রঙ পাখি গ্যাস সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত ভাইরাস বিড়াল আকাশ গতি কান্না আম
...