মানুষের স্বাভাবিক ঘুমানোর সময় (রাত ১০টা - ১১টা) পার হয়ে গেলে হঠাৎ ঘুম চলে যাওয়া বা শরীর চাঙ্গা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় "সেকেন্ড উইন্ড" (Second Wind) বা "ওয়েক মেইনটেন্যান্স জোন" (Wake-Maintenance Zone) বলা হয়।
আমাদের শরীরে মস্তিষ্ক এর একটি অংশ 'Suprachiasmatic Nucleus' নিয়ন্ত্রিত একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি রয়েছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) বলা হয়। এটি আলো ও অন্ধকারের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং রাতে অন্ধকার বাড়ার সাথে সাথে এটি মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে আমাদের ঘুমানোর সংকেত দেই। এভাবে শরীর প্রতিদিন ঘুমানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা 'স্লিপ উইন্ডো' তৈরি করে (যেমন: রাত ১০টা থেকে ১১টা)। এই সময়ে মস্তিস্কে অ্যাডেনোসিন (Adenosine) নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে তীব্র "ঘুমের চাপ" (Homeostatic Sleep Pressure) তৈরি করে।
যখন আপনি ঘুমের চাপ উপেক্ষা করে রাত ১২টা পার করে ফেলেন, তখন শরীর নিজেকে সজাগ রাখতে জরুরি অবস্থা বা 'সারভাইভাল মোড' সক্রিয় করে। এর ফলে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল (Cortisol) এবং অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline)-এর মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো আপনার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্ককে এতটাই সতর্ক (Wired) করে তোলে যে ঘুম পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।
সোর্সঃ
https://ubiehealth.com/doctors-note/second-wind-11pm-body-clock-explained-42-rhythm-ux32e4