ঝড়-বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ চলে যায় কেন? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+1 টি ভোট
4,958 বার দেখা হয়েছে
"প্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন (141,860 পয়েন্ট)

2 উত্তর

+2 টি ভোট
করেছেন (24,290 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
আর সবার মতো একসময় আমারও ধারণা ছিলো, ঝড়ে বিদ্যুৎ এর তার ছিড়ে গেলে যদি বিদ্যুৎ বন্ধ না করা হয় তাহলে ভয়ানক দুরঘটনা ঘটতে পারে, এই জন্য সতর্কতা অবলম্বন করে বিদ্যুৎ এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ভুল, ভুল ধারণা --
আবার অনেক সময় দেখা যায়, এই বিদ্যুৎ যাচ্ছে, এই আসছে। মিনিটে কয়েকবার আসে যায়। আমরা গালি দেই, দূর!! একটা তামাশা শুরু করছে
আপনি ভাবতেছেন এটা ইচ্ছা করে কেউ করছে? শতভাগ ভুল কিছু ভাবছেন তাহলে।আসুন সঠিক তথ্য জেনে নেই।
বিদ্যুৎ যে যায়গা থেকে বিতরন করা হয়, এটাকে উপকেন্দ্র (সাব স্টেশন) বলে। এই উপকেন্দ্রের ভিতর একটা খুব বড়সড় রুমে আলমারির মতো বড়সড় ম্যাশিন টাইপের কিছু থাকে। এগুলো কে ফিডার বলে। এক একটা ফিডার এক একটা এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ করে। এই ফিডার অফ, মানে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ অফ।
এখন আসুন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণ খুজি
আপনার বাসায় বিদ্যুৎ যে কারণে চলে যায়, আমরা সে কারণগুলো কে ফল্ট বলি।
আমাদের এখানে বা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে কি কি ফল্ট হলে আপনার বাসায় বিদ্যুৎ চলে যায়??
অনেক কারণ হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দেখবেন ৩ টা তার থাকে, এগুলো কে আমরা ফেইজ বলি। A, B, C ফেইজ। বাতাসের কারণে যদি এই ৩ টা ফেইজ কোন কারণে এক সাথে লেগে যায়, তাহলে আমাদের উপকেন্দ্রের ফিডার (মানে আপনার বাড়িতে বিদ্যুৎ যাওয়ার সুইচ)ফল্ট করে।
২) ঝড়ে বা বাতাসে গাছ ভেঙে ফেইজের উপর পড়লে বা একবার বাড়ি খেলেও আমাদের এখানে ফিডার ফল্ট করে
৩) ট্রান্সফরমার এ সমস্যা হলেও ফল্ট করে।
৪) কোন মানুষের হাতের স্পর্শ পেলেও ফল্ট করে
এখন আসুন জেনে নিই ফল্ট করলে কি হয়। ফল্ট করার মানেই অটুম্যাটিক বিদ্যুৎ অফ হয়ে যাবে। আমাদের হাতে কোন শক্তি ই নেই অফ রোধ করার। মনে করেন ২০ কিমি দূরে গাছের ঢাল বাতাসে বাড়ি মারছে, অটো বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে।
ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে তার ছিড়ে গেছে? মিলি সেকেন্ড এ বিদ্যুৎ লাইন অফ হয়ে যাবে। তার না লাগানো পর্যন্ত আমরা ইচ্ছা করলেও লাইন চালু হবে না। কোনভাবেই না।
তাহলে মিনিটে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসে যায় কেন?
বাতাসে বাড়ি মারে, অফ হয়ে যায়, আমরা চালু করি, আবার বাড়ি মারে, অফ হয়। এই জন্য ই তারের আশেপাশে থাকা গাছের ঢাল নির্দয় ভাবে কেটে ফেলা হয়।
কারণ ঢালের সংস্পর্শে আসলে কোনভাবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা যাবে না......।
আর একটা কথা, এটা আমাদের বাসার সুইচ না যে আমাদের ইচ্ছায় বন্ধ করবো বা চালু করবো
উপকেন্দ্রে যিনি থাকেন, তিনি কখনোই নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করতে পারেন না, চালু করতেও পারেন না। যে সকল ফল্ট বললাম, এইগুলো হলে অটো বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি ফল্ট না হয়, তাহলে মেরামতের কাজ বা নতুন লাইনের সংযোগ এর জন্য কমপক্ষে ২য় শ্রেণীর অফিসার এর নির্দেশে বন্ধ হয়। কোথাও আগুন লাগলে বন্ধ হয়।
গ্রামে অনেক সময় ২/৩ দিন বিদ্যুৎ থাকে না কেন?
গ্রামের লাইন এতো চিপা চাপা দিয়ে যায় যে, অনেক সময় খুঁজেই পাওয়া যায় না ফল্ট কোথায়
অফিসার তার টিম নিয়ে সারা এলাকা তন্নতন্ন করে খুজে বেড়ায়। তবুও খুজে পায় না
তখন এমন হয়। মোটকথা ইচ্ছা করে বন্ধ হয় না।
লোড শেডিং কেন হয়?
হে, একমাত্র লোড শেডিং এর জন্য ইচ্ছা করে লাইন বন্ধ করা হয়। এটাও হয় একমাত্র প্রথম শ্রেণীর বা তার উপরের অফিসার এর নির্দেশে। এটাও ইচ্ছা করে করা হয় না। যখন লোড অনেক বেশী হয়ে যায়, Power Transformer লোড নিতে পারে না, তখনই কেবল কোন একটা ফিডার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
করেছেন (110 পয়েন্ট)
আমার আব্বু বিদ্যুৎ অফিস এ কর্মরত আছেন সেই খাতিরে এগুলো বিষয় নিয়ে জানা আছে মোটামুটি।
আপনার উত্তর অনেক সুন্দর হয়েছে।
কিছু জিনিস মানুষ বুঝতেই চায় না।
আপনার এই সুন্দর উপস্থাপনা দিয়ে অনেকের ভুল দূর হবে।
0 টি ভোট
করেছেন (141,860 পয়েন্ট)

ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার এই ব্যাপারটি আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে অনেক বেশি ঘটে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে খুব একটা ঘটে না। আমাদের দেশের  বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার খুঁটিতে তারের জট দেখেছেন?

ঝড় কিংবা বৃষ্টির সময় এসব তারের ছিঁড়ে যাওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। সে সব ছেঁড়া তারে যদি বিদ্যুৎ থাকে তবে সেখান থেকে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শর্ট সার্কিট হয়ে ট্রান্সফর্মার বা পুরো ফিডারটাই নষ্ট হতে পারে কিংবা জানমালের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব বৈদ্যুতিক লাইনে পলিথিন বা কাপড় কিংবা অন্য জিনিসপত্র ঝুলছে। এসব জিনিসপত্র বিদ্যুৎ অপরিবাহী হলেও বৃষ্টিতে ভিজে সেগুলো বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসবে কাজ করে, এবং পাশাপাশি দুটো তারের মধ্যে শর্টসার্কিট তৈরি করে ফেলতে পারে। সেজন্য সাবধানতার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ রাখা হয়।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক তারগুলো বেশিরভাগ সময়ই মাটির নিচ দিয়ে যায়। যা কারণে ঝড়-বৃষ্টিতে খুব একটা সমস্যা হয় না।

লেখক : আদনান কাইয়ুম

করেছেন (24,290 পয়েন্ট)
আপনার উত্তরটি ভুল।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+1 টি ভোট
1 উত্তর 388 বার দেখা হয়েছে
02 মে 2022 "পরিবেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Reyajur Rahman (9,290 পয়েন্ট)
+10 টি ভোট
2 টি উত্তর 2,443 বার দেখা হয়েছে
+6 টি ভোট
1 উত্তর 765 বার দেখা হয়েছে
+6 টি ভোট
1 উত্তর 480 বার দেখা হয়েছে
22 সেপ্টেম্বর 2020 "পরিবেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন বিজ্ঞানের পোকা ৫ (123,410 পয়েন্ট)

10,933 টি প্রশ্ন

18,641 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

884,248 জন সদস্য

32 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 32 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. bl555jpnet1

    100 পয়েন্ট

  2. 789clubvin2

    100 পয়েন্ট

  3. h88today

    100 পয়েন্ট

  4. b52gamesacom

    100 পয়েন্ট

  5. b29zacom

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান খাওয়া গরম #জানতে শীতকাল ডিম চাঁদ বৃষ্টি কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা আগুন লাল মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার সাদা মস্তিষ্ক শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো পা উদ্ভিদ মন কি বিস্তারিত পাখি গ্যাস রঙ সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ ভাইরাস আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত বিড়াল গতি কান্না আম
...