অপ্রস্তুত হলে মানুষ তোতলায় কেন? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+5 টি ভোট
215 বার দেখা হয়েছে
"বিবিধ" বিভাগে করেছেন (135,490 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (20,400 পয়েন্ট)
তোতলামি করাটা এক ধরনের রোগ। এই রোগের পিছনে অনেকগুলো কারণ চিন্তা করা হয়েছে। মানুষের কথা বলা নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের বেশ কয়েকটি অংশ দিয়ে। বিভিন্ন অংশে সমস্যা হলে বিভিন্ন ধরনের কথা বলা সংক্রান্ত রোগ হয়। তোতলামি বা স্টাটারিং-এর পিছনে ব্রেইনের কোন অংশ কাজ করছে সেটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কেউ বলছেন যারা তোতলায় তাদের ব্রেইনের সামনের নিচের দিকের অংশ, যেটাকে ব্রোকাস এরিয়া বলে এবং যেটা মানুষের কথা বলতে পারাকে প্রোগ্রাম করে, সেটাতে ফাংশন কম হয়। আবার কেউ বলছেন 'রাইট ফ্রণ্টাল অপারকুলাম'নামক একটা জায়গায় এবনরমাল একটিভিটি হয়। তবে মূলত দেখা গেছে কথা বলার সময় ব্রেইনের বিভিন্ন অংশগুলো যেই ক্রমে কাজ করে, তোতলামোর রোগীদের সেই ক্রমটা একটু ওলটপালট হয়ে যায়।

তোতলামি রোগটা শিশু থেকে বড় হওয়ার সময় হতে পারে। যেগুলোকে বলে ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার। আবার একদল বিজ্ঞানী তোতলামো রোগীদের মধ্যে তিনটে জিনকে এর সাথে সম্পর্কিত পেয়েছেন। যদিও স্টাটারিং রোগটার পুরোপুরি ভাল হয় না, কিন্তু কিছু থেরাপী আছে যার মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়’।

এ বিষয়ে জার্মান ভিত্তিক ওয়েবসাইট dw.de ঘেটে দেখা গেলো সেখানে তাঁদের নিজস্ব প্রতিবেদক জনাব ‘মুনীর উদ্দিন আহমেদ’ বলেছেন - ‘তোতলামি বা কথা বলার প্রতিবন্ধকতা এমন একটি শারীরিক ব্যাধি যার কারণে কিছু মানুষ একই শব্দকে বার বার বলে, অনেক সময় একটা শব্দকে টেনে অনেক লম্বা করে বলতে থাকে এবং অনিচ্ছাকৃত এই সমস্যার কারণে কথা বলার স্বাভাবিক গতি ব্যহত হয়৷

‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন' সম্প্রতি এই তোতলামির কারণ সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন ছেপেছে৷ জিনতত্ত্ববিদ এবং এই গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম রচয়িতা ডেনিস দ্রায়ানা তাঁদের অনুসন্ধানের সাফল্য সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন,‘‘তোতলামির কারণ অনুসন্ধানে হাজার বছর ধরে নানা অনুমান করেছে মানুষ৷ অবশেষে আমরা অন্ততপক্ষে এর কিছুটা হলেও জানতে পেরেছি”৷

যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্রবণ এবং অন্যান্য যোগাযোগ প্রতিবন্ধিত্ব বিষয়ক জাতীয় ইন্সটিটিউট' বা ‘এনআইডিসিডি'-এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা করেন৷ এই ইন্সটিটিউটে দ্রায়না এবং তাঁর সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং পাকিস্তানের প্রায় সাড়ে সাতশ মানুষের ওপর এই গবেষণা চালান৷ এজন্য বেছে নেওয়া হয় তোতলামি'র সমস্যা আছে এমন ১২৩ জন এবং এই সমস্যা নেই এমন ৯৬ জন পাকিস্তানিকে৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ৫৫০ জন ব্যক্তিকেও বাছাই করা হয় একইভাবে৷ যাদের প্রায় অর্ধেকেরই তোতলামি'র সমস্য রয়েছে৷

এই গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত কিছু পাকিস্তানিকে আগের এক কাছাকাছি গবেষণাতেও বেছে নেওয়া হয়েছিল৷ আগের ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছিলেন যে, তোতলামির সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের জিনে ‘জিএনপিটিএবি' নামে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷

নতুন গবেষণার ফলাফল বলছে ‘তোতলা' ব্যক্তিদের জিনে ‘জিএনপিটিএবি' নামক ‘মিউটেশন' তো আছেই বরং একইসঙ্গে এমন আরও দু'টি ‘মিউটেশন' আছে৷ এগুলো হল ‘জিএনপিটিজি' এবং ‘এনএজিপিএ'৷ কিন্তু ‘তোতলা' নন এমন ব্যক্তিদের এই তিনটির কোনো ‘জিন মিউটেশন'-ই নেই৷

মার্কিন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জেমস বেটি বলেন, ‘‘এই গবেষণাতেই প্রথমবারের মতো তোতলামি'র সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে সুনির্দিষ্ট করে কোনো জিন মিউটেশনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে৷ ফলে এখন তোতলামি'রি চিকিৎসার সুযোগ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেল৷''

‘স্টাটারিং ফাউন্ডেশন' এর প্রেসিডেন্ট জেন ফ্রাসের বলেছেন, এই গবেষণার ফলে অনেক অভিভাবকের কাঁধ থেকে একটা বোঝা নেমে গেল৷ যারা ভাবতেন যে, তাঁদের কোনো ভুলের কারণেই সন্তান তোতলামির সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে৷ ফ্রাসের বলেন, ‘‘গবেষণা থেকে এটা স্পষ্ট যে সমস্যাটা শরীরবৃত্তীয়৷''

তবে, ওষুধের মাধ্যমে তোতলামির শারীরিক চিকিৎসার এখনও অনেক পথ বাকি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এখনও আগের মতোই থেরাপির মাধ্যমেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে৷ পাকিস্তানের লাহোরের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ‘হলিন্স কমিউনিকেশন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট' এবং ‘ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ'-ও ‘এনআইডিসিডি'র এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে৷

ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদক রোকেয়া হায়দার তাঁর একটা প্রতিবেদনে তোতালামি নিয়ে মেরীল্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ন্যান র‌্যাটনার মুক ও বধির সংক্রান্ত বিজ্ঞানের শিক্ষকের কথা তুলে ধরেন এভাবে, ‘অনেকেই ব্যাপারটাকে ভুল বোঝে এবং মনে করে যে, তোতলামি হচ্ছে আবেগ সামলানোর এক সমস্যা। ছেলেবেলায় কোন কিছুতে ভয় পাওয়ার কারণে হয়েছে, বা অতিরিক্ত উদ্বেগ উত্কণ্ঠা এর কারণ। আসলে কিন্তু তা নয়’।

 

©

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+9 টি ভোট
1 উত্তর 2,369 বার দেখা হয়েছে
+3 টি ভোট
1 উত্তর 404 বার দেখা হয়েছে
+5 টি ভোট
4 টি উত্তর 994 বার দেখা হয়েছে
01 ফেব্রুয়ারি 2021 "বিবিধ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hojayfa Ahmed (135,490 পয়েন্ট)
+8 টি ভোট
1 উত্তর 1,479 বার দেখা হয়েছে
+10 টি ভোট
2 টি উত্তর 992 বার দেখা হয়েছে
13 অক্টোবর 2020 "বিবিধ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন বিজ্ঞানের পোকা ৫ (123,400 পয়েন্ট)

10,921 টি প্রশ্ন

18,622 টি উত্তর

4,747 টি মন্তব্য

875,144 জন সদস্য

41 জন অনলাইনে রয়েছে
1 জন সদস্য এবং 40 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Mynul

    470 পয়েন্ট

  2. Aviator Game

    180 পয়েন্ট

  3. bobbyanderson0

    140 পয়েন্ট

  4. Fayahal Bin Kadry

    120 পয়েন্ট

  5. taptapvnnet

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য স্বাস্থ্য মাথা গণিত মহাকাশ প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল চাঁদ ডিম বৃষ্টি কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা আগুন লাল মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার মস্তিষ্ক সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো পা উদ্ভিদ মন কি বিস্তারিত গ্যাস রঙ পাখি সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ ভাইরাস আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত বিড়াল গতি কান্না আম
...