মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় শারীরিক ভাবে দুর্বল হয় কেন? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+10 টি ভোট
863 বার দেখা হয়েছে
"তত্ত্ব ও গবেষণা" বিভাগে করেছেন (110,340 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (140 পয়েন্ট)

The Blog

মতামত

 

নারী পুরুষের নিচে?

বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৬

নারী পুরুষের নিচে?

অনেকেই ভাবেন ‘অসমান’ শব্দের সমার্থক ‘আলাদা’। কেউ কেউ ভাবেন ‘আলাদা’ শব্দের সমার্থক ‘অসমান’। দুটো একই বিষয়, তবে ভাবগত আলাদা অর্থ নিশ্চয়ই আছে। তো ধরে নিলাম সমার্থক, এখন প্রশ্ন আসছে ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার দুটো আলাদা পেশা। বলুন তো কোন পেশা বড়? ডাক্তার আপনার আমার নাড়ি দেখে কাগজে ওষুধের নাম লিখে দেন, প্রয়োজনে শরীর কাঁটাছেঁড়া করে আপনার আমার শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করেন। আর ইঞ্জিনিয়ারের আপনার বাড়ির সব প্রযুক্তির পেছনে অবদান। তাদের জন্যই আজকে আপনি সুইচ টিপলে আলো জ্বলে, এক সুইচে খাবার গরম হয়, ঠাণ্ডা হয়, ঘর গরম বা ঠাণ্ডা হয়। দুটো পেশাকেই কিন্তু গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি বলতে পারেন না ডাক্তার সবসময় উপরের বা বলতে পারেন না ইঞ্জিনিয়ারই উপরের সারির পেশা।তাহলে কীভাবে বলেন পুরুষ নারীর প্রভু? নারীর স্থান সবসময় পুরুষের নিচে? নারী-পুরুষ উভয়ই মানুষ, একে অপরের পরিপূরক।  নারীর আলাদা শারীরিক বৈশিষ্ট্য, পুরুষের আলাদা। এই আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বাভাবিকভাবেই নারীর শরীরের কার্যপদ্ধতি আলাদা। পুরুষের শরীর যা করতে পারে, নারী তা করতে পারে না আবার নারী যা যা করতে পারে পুরুষ তা করতে পারে না। কিন্তু এর সঙ্গে কেউ প্রভু আর কেউ প্রজা- এমন কথা বলার তো প্রশ্নই আসে না। তার পরেও শুনতে হয় নারীরা একা চলতে পারে না, চলতে দেয়া উচিত নয়। তাদের প্রকৃতিই আরেকজনের সঙ্গে চলার জন্য তৈরি করেছেন। নারীদের ঘরের বাইরে কিছু করতে দেয়া উচিত নয়, তাতে তারা স্বভাবে বেয়াড়া হয়ে যান। নারীরা দুর্বল, কাজেই পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দেয়া তাদের উচিত নয়। কেন দুর্বল এই প্রশ্নের উত্তর ভয়াবহ বিরক্তিকর। পুরুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে তরল নিষ্কাষণ করতে পারেন, নারীরা কেন পারেন না? এর উত্তরে নিশ্চয়ই বলা যায়, নারীরা গর্ভধারণ করতে পারেন; পুরুষরা কেন করতে পারেন না? কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পুরুষের অপারগতাকেও সমাজ এবং পুরুষ দুয়ে মিলে গর্বের কারণ বানিয়ে ফেলেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাস্তা নোংরা করার ব্যাপারে যেমন তারা গর্ব করেন, গর্ভধারণ করতে না পারার ব্যাপারেও তারা একইরকম গর্বিত! তার মানে নারীকে তারা ঠিক কতখানি ছোট, অপারগ মনে করলে তার সব যোগ্যতাকে অস্বীকার করে তাকে দুর্বল ও নীচুস্তরে নামিয়ে এনে দ্বিতীয় লিঙ্গের মর্যাদা দিতে পারেন- সেটা বলাই বাহুল্য!অনেকেই বলেন, ছেলেদের শরীরে শক্তি বেশি, তাই তারা মানুষের স্ট্যান্ডার্ডে এগিয়ে থাকবেন- সেটাই স্বাভাবিক। এখানে আরেকটা বিষয় মনে রাখা ভালো, মাতৃতান্ত্রিক কয়েকটা উপজাতি রয়েছে, যাদের নারীরা বাইরে কাজ করেন আর পুরুষেরা ঘরে কাজ করেন। তাদের নারীরা মাটি কাটেন, বড় বড় বস্তা মাথায় তুলতে পারেন, ইটের ভাটায় কাজ করেন। এই শহরের শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত বড় বড় ঘরে বসে থাকা সাহেবদের যদি তাদের কাজ করতে দেয়া হয়, তাহলেই টের পাওয়া যাবে গায়ের জোর কার কতখানি।  বা সবকিছু বাদ দিলাম। ভারোত্তলনে স্বর্ণ জেতা মেয়েটা যতখানি শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারী, তার সঙ্গে পুরুষের পাল্লা দিয়ে আসলে কী লাভ? তারও পরের কথা, অধিকারের প্রসঙ্গে কার গায়ে কতো শক্তি তা নির্ণয়ে কী লাভ হয়? পুরুষের গায়ে শক্তি বেশি বলে গায়ের জোরে সবকিছু দখল করা তো সভ্যতার অংশ হতে পারে না। নারী হবে নিয়ন্ত্রিত আর পুরুষ নিয়ন্ত্রক এমন সমাজ দিয়ে কতখানি, কী উদ্ধার হতে পারে- তাও আমার জানা নেই। যারা অন্যকে ছোট করে দেখে, নিজের সমান ভাবতে পারেন না, তারা মানুষকে কি আদৌ সম্মান করতে পারেন? সম্মান করতে পারেন না বলেই ‘ভিক্টিম ব্লেমিং’ সংস্কৃতির মানসিকতা দিনদিন বেড়ে চলেছে। কেউ কম, কেউ বেশি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই সবকিছুতে নারীর দোষ খুঁজে বেড়ান। আর ভাবেন নারীরা দুর্বল, এরচেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। ক্ষমতা যদি না থাকে তবে সেই অক্ষমতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সক্ষমতা তৈরি করলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যে আপনি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার অপরাধে কন্যার মায়ের দিকে চোখ তুলে তাকান না, সেই আপনিই যে কিছুক্ষণ আগে হন্যে হয়ে নারী ডাক্তার খুঁজে এসেছেন- সেটা ভুলে গেলে চলবে কী করে? নারীর জন্ম না হলে, নারীকে দুর্বল বলে পড়াশোনার সুযোগ না দিলে নারী ডাক্তার তো আর আকাশ ফুঁড়ে আবির্ভূত হবেন না। সর্বোপরি, নারীদের শারীরির-মানসিক গঠন আলাদা বলে যে নারীকে ছোট বলে চলেছেন, সে নারীই যে আপনাকে নিজের নাড়ির সঙ্গে বেঁধে শরীরে ভেতর বড় করেছেন- তাকে অস্বীকার করলে আপনার জন্ম মিথ্যে হয়ে যায়।আর আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষ্কে সর্বোপরি সবকিছু সমান দেন নি তাদের জন্য  আলাদা পৃথক পৃথক সব কিছুতেই ভেদাভেদ দিয়েছেন। আর তাই আমি মনে করি মেয়েদেরকে আল্লাহ তায়ালা অধিক ধৈর্য সহনশীল ভাবে তৈরী করলেও পুরুষদের কে শক্তিশালী তৈরী করেছেন তাই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়। আরেক টি কথা প্রকৃতির একটা গঠন বা নিয়ম আছে ছেলে ও মেয়ের মাঝে সেই গঠন বা নিয়ম আলাদা ভাবে প্রভাবিত হয়। আর তাই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় দুর্বল হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+3 টি ভোট
2 টি উত্তর 1,108 বার দেখা হয়েছে
20 এপ্রিল 2021 "জীববিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন হায়াত (20,400 পয়েন্ট)
+17 টি ভোট
2 টি উত্তর 2,383 বার দেখা হয়েছে
+3 টি ভোট
1 উত্তর 712 বার দেখা হয়েছে
+24 টি ভোট
1 উত্তর 625 বার দেখা হয়েছে

11,024 টি প্রশ্ন

18,697 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

894,964 জন সদস্য

42 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 42 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Yuzu451

    120 পয়েন্ট

  2. SinghalIndustries22

    120 পয়েন্ট

  3. draktim240

    120 পয়েন্ট

  4. ae888cymru

    100 পয়েন্ট

  5. hi88soccer1

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো মোবাইল #science ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান খাওয়া গরম #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রাত রং সাপ মনোবিজ্ঞান শক্তি উপকারিতা লাল আগুন গাছ মস্তিষ্ক খাবার সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় ঠাণ্ডা হাত মশা স্বপ্ন ব্যাথা ভয় তাপমাত্রা বাতাস গ্রহ রসায়ন কালো গ্যাস পা উদ্ভিদ পাখি রঙ সমস্যা মন কি বিস্তারিত বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ভাইরাস ব্যথা দাঁত হলুদ বিড়াল আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন গতি কান্না মুখ
...