এই প্রশ্নেই উত্তর আছে৷ খেঁয়াল করলেই বুঝতে পারবেন।
প্রথমত ডাল্টন ঘোষণা করেন পরমাণু অবিভাজ্য। যা ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত । কিন্তু থমসন দেখান যে, পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রনের মতো আরও ক্ষুদ্র কণা আছে, যার অর্থ পরমাণুকে ভাঙা সম্ভব।
থমসন “পরমাণু অবিভাজ্য” ধারণা নিয়ে কাজ করছিলেন। ১৮৯৭ থমসন ক্যাথোড রশ্মি (cathode ray) নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন—ক্যাথোড রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণার দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর ভর খুবই কম। এগুলো সব ধরনের পদার্থ থেকেই উৎপন্ন হয়।
তিনি সিদ্ধান্ত নেন এগুলো একটি মৌলিক কণা। যার নাম দেন" ইলেকট্রন"-
এই পরীক্ষায় দেখা গেল—পরমাণু থেকে ছোট কণা (ইলেকট্রন) বের হচ্ছে, ফলে পুরনো ধারণা ভেঙে যায় ,বোঝা যায় পরমাণু বিভাজ্য।
এখন থমসনের কাজ ছিলো শুধু “পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন আছে” প্রমাণ করা। এরপর তিনি পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করার জন্য একটি মডেল প্রস্তাব করেন, যা "প্লাম পুডিং মডেল" (Plum Pudding Model) নামে পরিচিত। এই মডেলে তিনি বলেন, পরমাণু হলো একটি ধনাত্মক আধানযুক্ত গোলক, যার মধ্যে ইলেকট্রনগুলো ছড়ানো থাকে (যেমন তরমুজের ভেতরে বীজ থাকে)।
থমসেনর কাজ এই পর্যন্তই শেষ। তিনি পরমানুর পূর্নাঙ্গ কোন মডেল প্রদান ও প্রমাণ করতে পারেননি। পরমানুর গঠন তার মধ্যকার নিউক্লিয়াস, প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন এর উপস্থিতি ও কিভাবে থাকে (মডেল) এগুলো প্রমান করতে পারেননি। তিনি শুধু পরমাণুর মধ্যে উপস্থিত ইলেকট্রনকে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন।
এরপর রাদারফোর্ড পরমাণু পূর্নাঙ্গ গঠন, নিউক্লিয়াস ইত্যাদির অবস্থান ব্যাখ্যা ও প্রমান করেছিলেন।
চূড়ান্ত সারাংশ এভাবে লেখা যায়
ডালটন: পরমাণু অবিভাজ্য
থমসন: পরমাণুতে ইলেকট্রনের উপস্থিতি শনাক্ত→ ইলেকট্রন আবিষ্কার → পরমাণু বিভাজ্য
রাদারফোর্ড: পরমাণুর কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস ও গঠন ব্যাখ্যা → পদার্থের বিভাজ্যতার প্রমাণ ও পরমাণুর পূর্নাঙ্গ মডেল প্রদান ( যদিও তার মডেলেও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো)