‘X’ অক্ষরটির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে এর চিরন্তন রহস্যময়তা এবং অজানাকে প্রকাশ করার সহজাত ক্ষমতা।
এর গাণিতিক জয়যাত্রা শুরু হয় মূলত সপ্তদশ শতাব্দীতে ফরাসি গণিতবিদ রেনে দেকার্তের হাত ধরে, যিনি অজানা রাশি হিসেবে বর্ণমালার শেষ অক্ষরগুলো (x, y, z) ব্যবহারের চল শুরু করেন।
একটি থিওরি অনুযায়ী, তৎকালীন ফরাসি ভাষায় এই অক্ষরের ব্যবহার কম হওয়ায় ছাপাখানায় এর ছাঁচ বা ‘টাইপ-ব্লক’ প্রচুর পরিমাণে অবিক্রীত থাকত, যা মুদ্রণের কাজে এর ব্যবহার সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলেছিল।
ঐতিহাসিকদের মতে,X-এর উৎপত্তি হয়েছে আরবি শব্দ al-shayun (অর্থ: কিছু একটা) থেকে।
স্প্যানিশ পণ্ডিতরা যখন আরবি গণিত শাস্ত্র অনুবাদ করছিলেন, তখন ‘sh’ উচ্চারণের জন্য উপযুক্ত বর্ণ না পেয়ে তারা গ্রিক বর্ণ χ (chi) ব্যবহার করেন, যা কালক্রমে ল্যাটিন ‘X’-এ রূপান্তরিত হয়।
১৮৯৫ সালে উইলহেলম রন্টজেন যখন এক রহস্যময় অজানা রশ্মি আবিষ্কার করেন, তখন তিঁনি এর নাম দেন ‘এক্স-রে’, যা এই অক্ষরের অজানার ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করে।
বর্তমান যুগে ইলন মাস্কের ব্র্যান্ডিং (SpaceX, X) কিংবা পপ কালচারে ‘X-Men’ বা ‘The X-Files’ সবক্ষেত্রেই ‘X’ একটি আধুনিক ও শক্তিশালী এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এছাড়া, এর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যবহারও দেখা যায় যেমন Xmas-এর ‘X’ আসলে গ্রিক শব্দ ‘Christos’-এর আদি অক্ষর ‘chi’ (χ) থেকে নেওয়া হয়েছে।গ্রিক ভাষায় খ্রিস্টকে বলা হয় Christos।
মূলত ধর্ম, বিজ্ঞান ও দর্শনের মিশেলেই ‘X’ আজ অজানার এক শ্রেষ্ঠ প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।