ত্বকের রং কি পুরোপুরি সাদা হয়ে যাবে?
না, কোনো গাঢ় ত্বকের মানুষ যদি ঠান্ডা ইউরোপীয় দেশে অনেক বছর ধরে বাস করে, তাহলে তার ত্বকের রং পুরোপুরি সাদা হয়ে যাবে না। ত্বকের রং প্রধানত নির্ভর করে মেলানিন নামক একটি পিগমেন্টের ওপর। এই মেলানিন তৈরি হয় আমাদের ত্বকের কোষে, যাকে বলে মেলানোসাইট। মেলানিনের পরিমাণ এবং ধরন (ইউমেলানিন বা ফিওমেলানিন) আমাদের ত্বকের রং নির্ধারণ করে। যারা গাঢ় ত্বকের, তাদের শরীরে ইউমেলানিন বেশি থাকে, আর যারা ফর্সা, তাদের কম থাকে।
এখন, আপনি যদি ঠান্ডা দেশে চলে যান, যেখানে সূর্যের আলো কম, তাহলে তোমার ত্বক মেলানিন কম তৈরি করতে পারে। কারণ মেলানিনের কাজ হলো সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা। সূর্যের আলো কম থাকলে, শরীর বুঝতে পারে যে এত মেলানিনের দরকার নেই। ফলে কিছুটা ত্বক হালকা হতে পারে। এটা আমরা প্রায়ই দেখি—যারা গরম দেশ থেকে ঠান্ডা দেশে যায়, তাদের ত্বক কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। কিন্তু পুরোপুরি সাদা হওয়া সম্ভব নয়, কারণ আপনার ত্বকের মূল রং আপনার জিনের ওপর নির্ভর করে। পরিবেশ শুধু অল্প পরিবর্তন আনতে পারে, পুরোটা বদলে দিতে পারে না।
ধরুন, আপনি বাংলাদেশে থাকতে থাকতে অনেকটা ট্যান হয়ে গেছ। তারপর আপনি নরওয়ে চলে গেলেন, যেখানে সূর্যের আলো খুব কম। কিছুদিন পর আপনার ট্যান চলে যাবে, ত্বক আগের চেয়ে হালকা দেখাবে। কিন্তু আপনার ত্বক যদি জন্ম থেকে গাঢ় হয়, তাহলে সেটা ফর্সা ইউরোপীয়দের মতো সাদা হবে না।
জিনের কোনো পরিবর্তন হবে কি?
না, জিনের কোনো পরিবর্তন হবে না। জিন হলো আমাদের শরীরের নীলনকশা, যেটা আমরা আমাদের বাবা-মা থেকে পাই। ত্বকের রং-সহ আমাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো এই জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনি যদি ঠান্ডা দেশে ১০ বছর, ২০ বছর বা এমনকি সারাজীবন থাকো, তাহলেও আপনার জিন বদলাবে না। পরিবেশ আপনার জিনকে প্রভাবিত করতে পারে না এমনভাবে যে সেটা স্থায়ীভাবে বদলে যায়।
তবে, একটা জিনিস বোঝা দরকার। জিনের পরিবর্তন হতে পারে শুধু অনেক প্রজন্ম ধরে, যাকে আমরা বলি বিবর্তন (evolution)। উদাহরণস্বরূপ, হাজার হাজার বছর আগে যখন মানুষ আফ্রিকা থেকে ইউরোপে গিয়েছিল, তখন যারা ঠান্ডা দেশে বাস করত, তাদের মধ্যে যাদের ত্বক হালকা ছিল, তারা বেশি বেঁচে থাকত। কারণ হালকা ত্বক সূর্যের কম আলোতেও ভিটামিন D তৈরি করতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে, অনেক প্রজন্ম পর, তাদের জিনে পরিবর্তন এসে ত্বক ফর্সা হয়ে গেছে। কিন্তু এটা একজন মানুষের জীবনে হয় না—এর জন্য লাখো বছর লাগে।
আপনার ক্ষেত্রে, আপনি যদি ইউরোপে থাকেন, আপনার ত্বকের মেলানিন কমে যেতে পারে, কিন্তু আপনার জিন একই থাকবে। আর আপনি যদি বাচ্চা নেন, আপনার বাচ্চার ত্বকের রং আপনার আর আপনার সঙ্গীর জিনের ওপর নির্ভর করবে, ইউরোপের জলবায়ুর ওপর নয়।
একটা মজার তথ্য
মজার ব্যাপার হলো, ত্বকের রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। এটা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খুব জরুরি। গাঢ় ত্বক গরম দেশে UV রশ্মি থেকে রক্ষা করে, আর ফর্সা ত্বক ঠান্ডা দেশে ভিটামিন D তৈরিতে সাহায্য করে। প্রকৃতি আমাদের এভাবেই তৈরি করেছে!